সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটক নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন কাজল আরেফিন অমি। এরপর যতগুলো কাজ করেছেন, সবগুলোই পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। সমসাময়িক কোনো নির্মাতার নাটক এত বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি। সম্প্রতি তার নির্মিত ২৭তম নাটক কোটির ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এটির নাম ‘এক্স ওয়াইফ’। যেখানে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও তানজিন তিশা। নাটকটি বছর-তিনেক আগে ইউটিউবে আপলোড করা হয়। সম্প্রতি এর ভিউ এক কোটি ছাড়িয়েছে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কাজল আরেফিন অমি বললেন, “আরও একটি কোটির মাইলফলক। ‘এক্স ওয়াইফ’ নাটকটি এক কোটি মানুষ দেখেছেন, আপনাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। অভিনন্দন নাটকের প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে। ধন্যবাদ দর্শকদের। এটি আমার ২৭তম এবং আফরান নিশো ভাইয়ার সঙ্গে দশম কোটির মাইলফলক অর্জন।” অমি-ই একমাত্র নির্মাতা, যার ২৭টি নাটক কোটির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সে হিসেবে তিনি বিরল রেকর্ডের অধিকারী বটে। এ ছাড়া আরও কিছু রেকর্ড তার দখলে রয়েছে। যেমন সবচেয়ে কম সময়ে কোটি ভিউ পাওয়া নাটকও তার নির্মিত। ‘ব্যাচেলরস কোরবানি’ নামে ওই কনটেন্ট মাত্র ৪ দিনে ১০ মিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ ধারাবাহিকের চতুর্থ সিজন প্রচার হচ্ছে। ইউটিউব চ্যানেল ধ্রুব টিভিতে প্রতি সপ্তাহে এর তিনটি পর্ব উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিটি পর্বই লুফে নিচ্ছেন দর্শক।
এই সফলতার পেছনের রহস্য কী? জানতে চাইলে নির্মাতা বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না। যে আমাকে ভাবায় তাই তুলে ধরতে চাই পর্দায়। আর কাজটি করার সময় কোনো ফাঁকি দিতে চাই না। আমি খুব ভালো একটি টিম পেয়েছি। তারা আমার চাওয়াগুলো দ্রুত বুঝে ফেলে। এই বোঝাপড়ার জন্যই কাজগুলো হয়তো ভালো হয়। দর্শকও হয়তো তাদের চেনা-জানা কাউকে আমার গল্পে খুঁজে পায়।’
কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত ‘ব্যাচেলর কোরবানি’ নাটকে অভিনয় করেছেন মারজুক রাসেল, জিয়াউল হক পলাশ, মিশু সাব্বির, চাষী আলম, শিমুল শর্মা প্রমুখ। আর ‘গুড বাজ’-এ অভিনয় করেছেন মিশু সাব্বির, সাফা কবির, পলাশ, পাবেল, পারসা ইভানা, শরাফ আহমেদ জীবন, শিমুল প্রমুখ। দুটি নাটকই উঠে এসেছিল ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়ে। এবারের নাটকে যেমন ছিল গল্পের ভিন্নতা, তেমনি লোকেশন আর পাত্র-পাত্রীর দিকেও নজর দিয়েছেন পরিচালক। তিনি জানান, ‘আমাদের উদ্দেশ্য দর্শকদের সুস্থ বিনোদন দেওয়া। সে চেষ্টাই করেছি। বরাবরের মতো এবারও দর্শকদের ভালোবাসায় আমরা মুগ্ধ। কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা দর্শকের প্রতি।’
টিভি নাটকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও এখনো এই নির্মাতাকে সিনেমা করতে দেখা যায়নি। ওয়েবেও কাজ করছেন না। ওয়েব সিরিজ নিয়ে তিনি বলেন, ‘মানি হেইস্ট বা মির্জাপুর সিরিজের পরবর্তী কিস্তির জন্য দর্শক যেমন অপেক্ষা করেন, তেমনি আমাদের ওয়েব সিরিজের জন্যও মানুষ অপেক্ষা করবেন এমন একটা ওয়েব সিরিজের পরিকল্পনা করেছি। এখন স্ক্রিপ্ট লিখছি। দেশের বাইরে যে ধরনের গল্প হিট হচ্ছে আমাদের দেশেও সেটাই করতে হবে তার কোনো মানে নেই। আমাদের সমাজের চেনা-জানা ঘটনাগুলোকে শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করলেই বরং দর্শক বেশি আকৃষ্ট হবেন। তেমনি একটি গল্প লিখছি। এটি সিনেমাটিকের জন্য তৈরি করব। বাজেটের সমস্যা আমাদের দেশে আজীবনের, তার মধ্যেও যতটুকু ভালো প্রোডাকশন করা যায় সেই চেষ্টাই করব।’